সিজিপিএ ম্যাটারস!

আমাদের একটা মিথ্যা শেখানো হয়, CGPA doesn’t Matter!!! বাস্তবতার পর্যায়ে এসে দেখি সিজিপিএ অনেক কিছুই মেটার করে। অনেকে উপহাস করে বলে,হাফেজের মত মুখস্থ করে পরীক্ষার হলে বমি করে দিয়ে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট পেলেই মেধাবী নয়। এগুলো বমি মেধাবী।

আমাদের ব্যাচের ফার্স্ট বয় তো ভালো করেই কথা বলতে জানে না,দুনিয়াদারি সম্পর্কেই জানে না।সেই তো হাফেজি মেধাবী! বাংলাদেশে একমাত্র বিসিএস এবং কিছু সরকারী জব ছাড়া আর সব জায়গায় সিজিপিএ ‘কে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এখন তো বেসরকারি জব সার্কুলারে তো উল্লেখ করাই থাকে,সিজিপিএ এত এর নিচে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
শুধু আমাদের দেশেই নয়,বিদেশেও সিজিপিএ কে দাম দেওয়া হয়।

আমি কিছুদিন ধরে বিদেশের বেশ কিছু ইউনিভার্সিটির স্কলারশিপ সম্পর্কে যোগাযোগ করলাম,তারাও কম সিজিপিএ ওয়ালা কাউকে সুযোগ দেয় না। যার সিজিপিএ বেশি তার সাথে বইয়ের সম্পর্ক বেশি,মেনে নিন। বিশ্ববিদ্যালয় এর পরীক্ষার খাতা স্কুল লাইফের গরুর রচনা বানিয়ে লেখার খাতা নয়।

ভালো সিজিপিএ পেয়ে ভালো কিছু করছে,এই রকম অনেক অনেক উদাহরণ আছে,কম সিজিপিএ পেয়ে অধিক ভালো কিছু করছে এই উদাহরণ গুলো খুব কম। আপনি তখন কম সিজিপিএ পেয়ে মেধাবী প্রমাণিত হবেন,যখন আপনার রিসার্চ পেপার কোন ন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে প্রকাশ হবে। আপনাকে নিয়ে দৈনিক গুলো আর্টিকেল প্রকাশ করলে। এখন সিজিপিএ ও নাই,রিসার্চ পেপারও নাই তাহলে কিভাবে মেধাবী হবেন?

  • সিজিপিএ কম মানলাম,কিন্তু আপনি তো উদ্যোক্তা নন।
  • সিজিপিএ কম, আপনি অন্য সেক্টরে দক্ষ নন!
  • সিজিপিএ কম,আপনার তো আবিষ্কার নাই!

ভালো সিজিপিএ গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়,এবং প্রতিযোগিতায় আপনাকে হেল্প করে। আপনার সিজিপিএ কম,সার্টিফিকেট তেমন একটা কাজ দিচ্ছে না। মুখস্থ ও বমি বিদ্যায়ী হলেও অনার্স শেষে বিশ্ববিদ্যালয় বাহিরে তাকেই পাঠায় যার সিজিপিএ ভালো। বিদেশের ইউনিভার্সিটি গুলো তাদেরকেই ডাকে। স্কলারশিপ পাচ্ছেন না,বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষক হওয়ার আবেদন করতে পারছেন না,প্রাইভেট সেক্টর গুলো ডাকছে না। শুধু মাত্র দেশের গুটি কয়েক সরকারী সেক্টর খোলা আছে,সেখানেও কম সিজিপিএ এবং বেশ সিজিপিএ ধারীরা এসে বসে আছে।

ফলাফল, অনার্স মাস্টার্স করে গার্মেন্টস সেক্টর,কোম্পানির মার্কেটিং সেক্টরের নিম্ন পদে গিয়ে বসতে হয়। হয় সিজিপিএ বাড়ান,নয়তো রিসার্চ ফুল কাজ বাড়ান। বর্তমান সময় দুইটো জিনিসকে গুরুত্ব দিচ্ছে,হয় সিজিপিএ বেশি নয়তো এডিশনাল এ্যাচিভমেন্ট বেশি।

Md Mizanur Rahman Noble