ভার্সিটি লাইফে যা দেখছি!

পাঁচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার কি অভিজ্ঞতা হয়েছে?

এইচএসসি তে বোর্ডে স্ট্যান্ড করেছিল যে ছেলেটি, তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে সেকেন্ড ক্লাস পেয়ে অনার্স শেষ করতে দেখেছি।

ভার্সিটিতে আমাদের ব্যাচে যে ছেলেটা তার ডিপার্টমেন্ট নিয়ে সবচেয়ে বেশি হতাশ ছিল, সে ই সবার আগে চাকরি পেয়েছে।

রাজনীতির মাঠে মিছিলে হাটে যে ছেলেটাকে কখনো দেখিনি, সে এখন রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতি গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত আছে।

হলে সবচেয়ে দাপটে চলা নেতাকেও একসময় চুপসে যেতে দেখেছি। আবার ছোটভাইদের দেখলে হাসিমুখে ভালমন্দ জিজ্ঞেস করতো যে রাজনৈতিক কর্মী, তাঁকে রাজনীতির মাঠে অনেক উচুঁতে উঠতে দেখেছি।

হলে উঠার পরে প্রতিদিন নাস্তা না করেই দু’বেলা খেয়ে দিন কাটিয়ে দেওয়া ছেলেটিকে দেখেছি একসময় ছাত্রজীবনেই শুধু টিউশনি করে মাসে লাখ টাকা উপার্জন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সবসময়ই নিজের ঔদ্ধত্য জাহির করা এক ছাত্রকে দেখেছি বয়স অনেক পার হয়ে যাওয়ার পরেও চাকরি ব্যাবসা কিছু ই ব্যবস্থা করতে পারে নি।

সুন্দর চেহারা নিয়ে অহংকার করা এক ব্যাচমেটকে শেষ মুহূর্তে ভাঙা মুখের চেহারা নিয়ে চল্লিশের কোঠা ছোঁয়া ভুড়িওয়ালা এক আঙ্কেলের হাত ধরে সংসারে যেতে দেখেছি।

মাদ্রাসা থেকে হেফজ, দাওরা, ইফতা পাশ করে ইউনিভার্সিটিতে এসে পুরোপুরি জিন্স টিশার্ট ওয়ালা ডিস্কো হয়ে যেতে দেখেছি।

শার্ট প্যান্ট পড়ুয়া সচরাচর পোশাকে অনেক ছাত্রকে অগাধ ধর্মীয় জ্ঞান ধারণ করতে দেখেছি।

হাতে মোজা পায়ে মোজা নাকমুখ বেঁধে নতুন ইউনিভার্সিটিতে আসা এক মেয়েকে মাস্টার্সে এসে সব পোশাক ছেড়ে জিন্স টপ্স ধরতে দেখেছি।

ইয়ো ইয়ো হানি সিংগার টাইপের ড্যান্সিং করে হাঁটাচলা করা এক মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষের দিকে এসে হিজাব পালন করে নিয়মিত ফেসবুকে কোরআনের আয়াত পোস্ট করতে দেখেছি।

নিয়মিত নামাজি এক মুসলমান ছেলেকে হঠাৎ একদিন ধর্মবিশ্বাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখেছি।

ভার্সিটির প্রথম তিন বছরে গোঁড়া নাস্তিক এক ছাত্রকে হঠাৎ দাড়ি টুপি সহ নামাজের কাতারে দাঁড়িয়ে যেতে দেখেছি।

নিয়মিত একবেলা ভাত আর দুবেলা গঞ্জিকা সেবন করা এক বন্ধুকে দেখেছি তিনদিনের তাবলীগে গিয়ে সব নেশা ছেড়ে দিয়ে সুন্নতি বেশে অন্য ছাত্রকে নামাজের দাওয়াত দিচ্ছে।

আগাগোড়া খাঁটি পর্দা করে বোরখা পরিহিত এক মেয়ে নির্বিঘ্নে সব বন্ধু বান্ধব ও সংগঠনের সাথে সময় দিতে দেখেছি। পর্দা তার কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

বিভিন্ন ইস্যুতে হয়রানি ও মামলার শিকার হয়ে হল থেকে বের হয়ে যেতে হয়েছে আমার সহপাঠী এক মেয়েকে, সে ই পরবর্তীতে ঐ হলের ডাকসুর হল সংসদ নির্বাচনে ভিপি হয়ে হলে ফিরে গেছে।

ডাকসুর নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় উচ্চ পর্যায় থেকে হামলার হুমকি খেয়ে কয়েকদিন হল ছেড়ে পালিয়ে থেকেও নির্বাচনে হলের জিএস হয়ে ফিরে আসতে দেখেছি।

হল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য যার রুমে গিয়ে এক ভাইকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসলো কয়েকজন ছেলে, বিসিএস-এ মেধাতালিকায় স্থান নিয়ে প্রশাসন ক্যাডার পাওয়ায় সেই ভাইকেই আবার ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে শুনেছি।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদে চাকরি পাওয়া এক মেয়ে টানা দুই বছর অফিস শেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত তার প্রেমিককে লাইব্রেরিতে এসে চাকরির পড়া পড়িয়েছে চাকরি পাওয়ার জন্য। এমন ঘটনাও শুনেছি।

চার বছর জানপ্রাণ দিয়ে সম্পর্কে জড়িত থেকেও এক মেয়ে তার প্রেমিকের চেয়ে আরেকটু প্রতিষ্ঠিত ও একটি মন্ত্রণালয়ের চাকরিজীবী ছেলে পাওয়ার পরে এক মুহূর্তে তার প্রেমিককে ভুলে গেছে। অনেক ছলনা-কোশল করে প্রেমিককে ছুড়ে ফেলে দিয়ে তার জন্য বেছে নিয়েছে সেই প্রতিষ্ঠিত ছেলে মন্ত্রণালয়ের চাকরিজীবীকে।

আর কি বাকি আছে বাস্তবতা শেখার?

➿ উপদেশঃ
শোনো, কখনো বর্তমান নিয়ে হতাশ বা উৎফুল্ল হয়ো না, সর্বদা ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করবে। কারণ বলে তো আসলে কিছু নেই, বর্তমানের প্রতিটি মুহূর্তই অতীত হয়ে যাচ্ছে।

Md Eunus