অনিশ্চয়তায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা

করোনা মহামারীর কারণে পনের মাস থেকে লাগাতার বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলশ্রুতিতে পরীক্ষা হচ্ছে না কোন স্তরেও। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে উচ্চশিক্ষায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য এক বছরেরও বেশি সময় পার হচ্ছে তাদের ভর্তির প্রস্তুতি নিতেই। তবু এখনও নেই কোন নিশ্চয়তা।

গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়ে এতোদিন তাদের অনার্স প্রথম বর্ষ ক্লাস করার কথা থাকলেও এখনো ভর্তি পরীক্ষায় দিতে পারেনি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাই আটকে গেছে। আটকে গেছে ডেন্টাল কলেজের ভর্তিও।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবার কয়েকটি ভাগে পরীক্ষা নেওয়ার তারিখ ঘোষণা করলেও সেই তারিখে পরীক্ষা নিতে পারছে না। আবারও নতুন করে তারিখ ঘোষণা করেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বারবার পরীক্ষার তারিখ পেছাতে বাধ্য হচ্ছে। সর্বশেষ বুধবার সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।

দেশে ৪৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও এবার প্রথম বর্ষ অনার্সে শিক্ষার্থী নিচ্ছে ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী গুচ্ছবদ্ধ হয়ে এবারে পরীক্ষা নিচ্ছে এসব বিশ্ববিদ্যালয়। গুচ্ছগুলো হচ্ছে, সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়।

এছাড়া পুরোনো ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা পরীক্ষা নিচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে পরীক্ষার পরিবর্তে এসএসসি-এইচএসসিতে প্রাপ্ত গ্রেডের মাধ্যমে ভর্তি করা হয়। সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ও আলাদা পরীক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তি করছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ই আবেদন ও পরীক্ষার সময় পুনর্বিন্যাস করেছে। তবে এ পরিস্থিতির মধ্যেই ২ এপ্রিল মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির পরীক্ষা নেওয়া হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ২১ মে শুরু করার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতি অবনতির কারণে পরীক্ষার তারিখ পুনর্র্নিধারণ করা হয়। আগামী ৩১ জুলাই ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তিযুদ্ধ শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। ১৪ থেকে ১৬ জুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও এখন ১৬ থেকে ১৮ আগস্ট তিন শিফটে পরীক্ষা নেবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ জুন থেকে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন অনুষদের পরীক্ষার তারিখ ছিল। পরে ২০ থেকে ২৭ আগস্ট তারিখ পুনর্র্নিধারণ করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন কার্যক্রম ২০ জুন শুরু হবে। শেষ হবে ৩১ জুলাই। ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি। বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা দুই ধাপে হয়ে থাকে। প্রাক-নির্বাচনি পরীক্ষা ৩০ জুন ও ১ জুলাই আর মূল পরীক্ষা ১০ জুলাই নেওয়ার কথা আছে।

প্রকৌশল গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা ১২ জুন হওয়ার কথা থাকলেও নেওয়া হবে ১২ আগস্ট। এ গুচ্ছে আছে রুয়েট, চুয়েট এবং কুয়েট। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছে ৩১ জুলাই পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও এখন ৪ সেপ্টেম্বর নেওয়া হবে। গতকাল বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দীন মিয়া।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে ভর্তির লক্ষ্যে ৮ জুন ভর্তি ফরম বিতরণ শুরুর করার কথা ছিল। চলমান পরিস্থিতির কারণে কর্তৃপক্ষ আগেরদিন এ কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রায় ৪শ কলেজ অনার্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করে।

তিনটি গুচ্ছের মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হচ্ছে সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি)। এ গুচ্ছে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত ৩ দিনে তিনটি বিভাগের (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তবে শিক্ষার্থীদের আবেদনের সময় বাড়িয়ে ২৫ জুন করা হয়েছে। পরীক্ষার তারিখ পরে জানানো হবে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭টি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৪ বছর মেয়াদি বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষা ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ৮ জুলাই পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হবে।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা ১১ ও ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দুই মাস পিছিয়ে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আবেদনের সময় বাড়ানো হয়। আর পরীক্ষা হবে ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর।