কতিপয় রাজা বর্গির বাংলাদেশ!

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি করার সময় একবার স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের সভাপতির বউয়ের প্রেশার মাপার জন্য ডিউটি আওয়ারে তার বাসায় যেতে হয়ে ছিল।
কোন সিম্পটম নাই, এমনি তার মন চেয়েছিল প্রেশারটা একটু চেক করাবে। আমি বাংলাদেশ সরকারের ফাস্ট ক্লাস গেজেটেড অফিসার, বগলে প্রেশার মাপার মেশিন নিয়ে তার বাড়ির দিকে রওনা হয়েছিলাম।
আজকে আর আমি নামকাওয়াস্তে ফাস্ট ক্লাস অফিসার না, সত্যি সত্যি ফাস্ট ক্লাস চাকরি করি। গলায় NHS এর আইডি কার্ড দেখলে আশেপাশের মানুষের চোখে স্পষ্ট সমীহ দেখতে পাই। এর জন্যে অবশ্য আমাকে শিকড় ছেড়ে আসতে হয়েছে। এই সাহস সবার হয় না, আমারও ছিল না। স্ত্রী যদি আমাকে ফুল সাপোর্ট না দিত তবে আমিও আজকে বাংলাদেশের রাস্তায় কোন পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ক্যাবলা মার্কা হাসি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম, আর কেন ‘মুভমেন্ট পাস’ ছাড়াই আমাকে হাসপাতালে যেতে দেয়া উচিৎ সেটা ‘তাহাদিগকে’ বুঝানোর চেষ্টা করতে গিয়ে গলদঘর্ম হতাম।
আপনাদের হৃদয়ে অসুখ হলে ভারতের দেবী শেঠি লাগে, নিজের দেশের মানুষের টাকায় নিজেদের নদীতে ব্রিজ বানাতে চীন-জাপান থেকে ইঞ্জিনিয়ার আনা লাগে। এই আপনারাই আবার আফসোস করেন, আহারে দেশের মেধাবীরা সব বিদেশমুখী! আর যারা দেশে থাকে, তারা গবেষণা বাদ দিয়ে নীলক্ষেত থেকে চটি বই কিনে বিসিএসের নেশায় মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্টের নাম মুখস্ত করে।
করবে না?
এছাড়া আর কোন উপায় খোলা রেখেছেন তাদের সামনে?
“পাওয়ার অ্যাবিউজ” এর ক্ষেত্রে দুনিয়ার বুকে একদম প্রথম সারিতে থাকা বাংলাদেশে-
এক কালে গাঁজা খেয়ে টেম্পুর হেলপারি করা, আজকের রাজনৈতিক পাতি নেতা; মন চাইলেই হাসপাতালে ঢুকে ডাক্তারকে চড়-থাপ্পড় লাগিয়ে শীষ দিতে দিতে চলে যায়। ঘুষ দিয়ে বাগে আনতে না পেরে ইঞ্জিনিয়ারকে মেরে তার লাশটা ডোবায় ফেলে দিয়ে যায়। স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের একটা সময়ে একজন চিকিৎসককে তার কর্মস্থলে যাবার পথে রিক্সা থেকে নামিয়ে দিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে বলে যখন কোন পুলিশের হাবিলদার, তখন আপনি বা আপনাদের তৈরি রাষ্ট্র ব্যবস্থা তাদেরকে কি বার্তা দিচ্ছেন, বলুন তো?
এই আপনারাই আবার কোন মুখে বলেন “হায় হায়! সব মেধা পাচার হয়ে গেল” ? এতো হিপোক্রেট কেন আপনারা?
দেশে নাকি আজ ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে!
ফেলে আসা বন্ধুদের ফেসবুক পোস্ট দেখে জেনেছি, বসে বসে বৃষ্টির ছবি দেখছি।
ঝুম বৃষ্টি আমার খুব প্রিয়। প্রখর রোদের পরে প্রথম বৃষ্টি হলে মাটির যে সোঁদা গন্ধ ছড়ায় সে গন্ধে আমার ঘোর লেগে আসে। কালবৈশাখী ঝড়ের পরে দক্ষিণের আমগাছ গুলোর নীচে কাদায় পা ডুবিয়ে আম কুড়ানোর স্মৃতি আমার হৃদয়ের একদম গহীনে অনেক যতনে আগলে রাখা সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি । জীবনে আর কোনোদিন হয়তো সেই মুহূর্ত গুলো ফিরে আসবে না! এটা ভাবতে গেলেই গলার মাঝে কেমন একটা দলা পাকিয়ে আসে।
সৎ থেকে, সম্মানের সাথে, একটু ভাল ভাবে বাঁচতে চাওয়া মানুষ গুলোর জন্যে দেশটাকে যারা নরক বানিয়ে রেখেছেন; হাজার হাজার মাইল দূরে, বিলেতের এক ছোট্ট শহরে বসে আমি আপনাদের আজ অভিশাপ দিচ্ছি।