জাজমেন্টাল মানুষগুলো!

রাস্তায় হইচই করতে থাকা মানুষগুলা মনে করে, একমাত্র তাদের জীবনটাই সুখের. বাকিদের কোন জীবন নাই ! একটা খুব পরিচিত MEME দেখি যেটায় লেখা থাকে, স্কুল কলেজ কিংবা ভার্সিটিতে একমাত্র ব্যাকবেঞ্চাররাই মেমোরি তৈরি করে, আঁতেলদের ভবিষ্যতে কোন গল্প করার মত স্মৃতি থাকে না ! এক শ্রেণীর জাজমেন্টাল মানুষ নিজেদের দৃষ্টিকোণ থেকে যা চিন্তা করে, সেইটাকেই সঠিক মনে করে বসে থাকে.কিন্তু তারা সবসময় সঠিক নাও হতে পারে.সমস্যাটা ওখানেই !এক দল মানুষ এসে বলে, “আমাদের সময় আমরা এটা করছি, ওটা করছি, তোমরা কি যে করো সারাদিন বুঝি না. লাইফ আছে তোমাদের কোন ?

আমি শুনি আর হাসি. লাইফ এর সংজ্ঞাটা কেমন আসলে?যে ছেলেটা দিনরাত কোডিং করে কিংবা যে মেয়েটা মুভি নিয়ে পড়ে থাকে অথবা যে মেয়েটা কিংবা গল্পের বইতে ডুবে থাকে আর যে ছেলেটা পড়ার বই নিয়ে দিন পার করে দেয় – এরা সবাই নিজের জায়গা থেকে তার লাইফ এনজয় করতেছে!

তোমার কাছে যেটা আঁতলামি, কারো কাছে সেটাই ভালোলাগা.তোমার কাছে যেটা বিরক্তিকর, কারো কাছে সেটাই আনন্দের. এই ছোট্ট সত্যিটা জাজমেন্টাল মানুষগুলো মানতে পারে না! তার ভালো লাগে দেখেই সে কাজটা করে. সে এনজয় করে দেখেই সে ঐ কাজে ডুবে থাকে .তোমার যা ভালো লাগে না, সেই কাজটা যে অন্য কারো ভালো লাগবে না, ব্যাপারটা কি এমন ? তুমি যে লাইফটা লিড করো, ওটা বাদে বাকিদের লাইফে মজা নাই, এই জাজমেন্ট করার তুমি কে ?

ভালো লাগার বিষয়গুলো মানুষভেদে পরিবর্তনশীল. আমি এমন মানুষকে চিনি, যে দিনের ৮০% সময় ঘুমিয়ে কাটায় .খায় না, ঘুরে না, আড্ডা দেয় না, ক্লাস করে না, প্রেম করে না .কিচ্ছু না.তাকে অনেকে ‘লাইফলেস’ বলে, সেগুলাতে তার কিছু যায় আসে না. সে বিন্দাস আছে, সে সুখে আছে, সে তার লাইফ উপভোগ করতেছে .তার কাছে লাইফের সংজ্ঞাটা তাকে ‘লাইফলেস’ বলা মানুষগুলোর চেয়ে অন্যরকম ! নিজেকে, নিজের লাইফ কে অন্যদের চেয়ে সুপিরিয়র ভাবাটা এক ধরণের ভুল কাজ. বেশিরভাগ মানুষ এই ভুলটাই করে.একেকটা মানুষ একেক কাজে আনন্দ খুঁজে পায় . নিজেকে দিয়ে সবকিছু বিচার করলে হয় না।

Rakib Hasan