স্পটিফাই কি : কেন স্পটিফাই ব্যবহার করবেন?

শত জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশে অফিসিয়ালি চলে এলো জনপ্রিয় মিউজিক ও অডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, স্পটিফাই এর সার্ভিস। গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে সরাসরি ইন্সটল করা যাবে স্পটিফাই অ্যাপ। এছাড়াও ভিপিএন ছাড়াই ডেস্কটপ অ্যাপ ও ব্রাউজারে ব্যবহার করা যাবে স্পটিফাই।

স্পটিফাই কি?

স্পটিফাই বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি মিউজিক ও পডকাস্ট ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য গান শোনা যাবে। এটি অনেকটা অ্যাপল মিউজিক, ডিজার ও ইউটিউব মিউজিক এর মতো একটি সার্ভিস।

স্পটিফাই কি ফ্রি?

স্পটিফাই এর সবচেয়ে সেরা ফিচার হলো এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। যে কেউ ইমেইল বা ফেসবুক দিয়ে সাইন আপ করে অ্যাপটি সম্পূর্ণ ফ্রিতে স্পটিফাই এর সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ যেকেউ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্পটিফাই এর সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে পারবেন কোনো টাকা খরচ না করেই।

তবে বিনামূল্যে স্পটিফাই ব্যবহার করতে গেলে বিজ্ঞাপন শুনতে হয়, অডিও কোয়ালিটিতে কিছুটা কমতি হয়, এছাড়া আরও কিছু বিষয়ে কম্প্রোমাইজ করতে হয়।

কীভাবে স্পটিফাই একাউন্ট খুলবেন

স্পটিফাই একাউন্ট খোলা অনেক সহজ। নতুন স্পটিফাই একাউন্ট খুলতেঃ

  • স্পটিফাই অ্যাপটি ইন্সটল করুন কিংবা ব্রাউজার বা ডেস্কটপ অ্যাপ থেকে স্পটিফাই এর ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
  • এরপর ফেসবুক কিংবা ইমেইল দিয়ে লগিন এর অপশনে প্রবেশ করলেই নতুন একাউন্ট তৈরী হয়ে যাবে।

স্পটিফাই প্লেলিস্ট – Spotify Playlist

প্লেলিস্ট মূলত গানের তালিকা, এটা সবার জানা। স্পটিফাই এ রয়েছে লক্ষ লক্ষ প্রি-মেড প্লেলিস্ট। যেকেউ স্পটিফাই ওপেন করে অসংখ্য ধরনের অগণিত প্লেলিস্ট থেকে নিজের পছন্দেরটি খুঁজে নিতে পারে।

ফলো করা আর্টিস্টদের নতুন গান নিয়ে “Release Radar” ও না শোনা গান নিয়ে “Discover Weekly” নামে দুইটি প্লেলিস্ট প্রতি সপ্তাহে সকল ব্যবহারকারীদের জন্য দেওয়া হয়। এছাড়াও রয়েছে ডেইলি মিক্স প্লেলিস্ট, যা প্রতিদিন আপডেট হয়। উল্লেখিত সকল প্লেলিস্ট সকল ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে অনন্য। অর্থাৎ একজনের প্লেলিস্ট আরেকজনের সাথে মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা অতি সামান্য।

স্পটিফাই এর আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই অতি বুদ্ধিমান, যার ফলে প্লেলিস্টসমুহ স্পটিফাই ব্যবহারকারীদের জন্য দারুন একটি ফিচার।

প্লেলিস্ট তৈরী করা অত্যন্ত সহজ। “Your Library” ট্যাব থেকে “Create Playlist” এ প্রবেশ করে প্লেলিস্ট এর নাম দিলেই প্লেলিস্ট তৈরী হয়ে যাবে। এরপর “Add Songs” অপশনে ক্লিক করে গান প্লেলিস্টে যুক্ত করা যাবে।

এছাড়াও যেকোনো গান বা পডকাস্টের অপশন থেকে “Add To Playlist” অপশন ব্যবহার করেও গান বা পডকাস্ট প্লেলিস্টে যুক্ত করা যাবে। আবার প্লেলিস্টে প্রবেশ করে গানের অপশন থেকে “Remove from Playlist” অপশন ব্যবহার করে কোনো গান প্লেলিস্ট থেকে বাদ দেওয়া যাবে।

স্পটিফাই সং রেডিও

স্পটিফাই এর অতি স্মার্ট ফিচার হচ্ছে সং রেডিও ফিচারটি। যেকোনো গানের অবশন থেকে “Go to Song Radio” অপশনটি সিলেক্ট করলে, সিলেক্ট করা গানের মত একই ধরনের গান নিয়ে প্লেলিস্ট পাওয়া যাবে। ফিচারটি ব্যবহারকারীদের স্পটিফাই ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে সক্ষম।

স্পটিফাই থেকে গান ডাউনলোড করা যায় কি?

হ্যা, স্পটিফাই থেকে গান ডাউনলোড করা যায়। তবে এই ফিচারটি শুধুমাত্র প্রিমিয়াম প্ল্যান যারা কিনেছেন, তারাই ব্যবহার করতে পারবেন। ডাউনলোড করা গানসমুহ ফোনের স্টোরেজে সেভ হবে এবং স্পটিফাই অ্যাপ থেকে ডাউনলোড করা গানসমুহ শোনা যাবে।

স্পটিফাইয়ে গান শুনতে কত এম্বি লাগে?

স্পটিফাইয়ে ৪ টি আলাদা অডিও কোয়ালিটিতে গান শোনা যায়। স্পটিফাই স্ট্রিমিং মূলত Ogg Vorbis ফর্মাটে হয়ে থাকে। ব্যবহারকারীগণ সেটিংস থেকে তাদের কাঙ্খিত অডিও স্ট্রিমিং সেটিংস নির্বাচন করতে পারবেন। স্পটিফাইয়ে গান শুনতে এম্বি খরচ এর পরিমাণঃ

  • অডিও স্ট্রিমিং সেটিংস যদি Normal এ সেট করা থাকে তবে ৫০ এম্বি ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহার হয়
  • Normal Quality তে ২৪ ঘন্টা মিউজিক স্ট্রিমিং করলে ১ জিবি মত ইন্টারনেট ব্যবহার হবে
  • High Quality অডিও কোয়ালিটির ক্ষেত্রে ১৫ ঘন্টা গান শুনলে ১ জিবি ডাটা খরচ হবে
  • Extreme Quality তে ৭ ঘন্টায় ১ জিবি ডাটা খরচ হয়
  • অন্যদিকে গান বা পডকাস্ট এ ভিডিও প্লেবেক অন রাখলে আলাদা ডাটা খরচ হবে।