রিলেশন এবং ক্যারিয়ার বিসর্জন!

রিলেশনে গোলমালের জের ধরে ক্যারিয়ার বিসর্জনের গল্পটা আজকাল ডাল ভাতের মতো হয়ে গেছে । একেবারেই সিম্পল আর খুব কমন ঘটনা । রিলেশনে টানা হেঁচড়া থেকে মানসিক অশান্তি । এরপর পড়াশুনায় ঢিল । ফলাফল হচ্ছে খারাপ রেজাল্ট এবং পরবর্তিতে ক্যারিয়ারে ঝামেলা তৈরি হওয়া ।

সব থেকে মেধাবী ছেলেটার যে পজিশনে থাকার কথা ছিল আজকে সে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় । অফিস টাইমে টং দোকানে বসে চা খায় । ক্লাসের সব থেকে ট্যালেন্টেড মেয়েটার সিজিপিএ 3.9 থেকে একটানে নেমে গেলো 3.1 এ । কেউ জানে না কেন এমন হয়েছে । মেয়ের এই পরিবর্তন দেখে বাপ মাও অবাক ।

আমার কেন জানি মনে হয় জীবনের একটা পর্যায়ে এসে স্বার্থপর হওয়া জরুরী । একটা সময়ে এসে ইমোশোন গুলোকে বস্তাবন্দি করে রাখা উচিত । একটা সময়ে রিলেশন ,ইথিক্স এই জিনিসগুলা বাদ দেয়া উচিত । মোস্ট অব দ্যা টাইম এইসব ইমোশন ভালো ফল বয়ে আনে না ।

ছেকা খেয়ে বেকা হয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার যে গল্প গুলো প্রচলিত আছে সেগুলো খুব কম মানুষের জন্যই প্রযোজ্য । বেশিরভাগ মানুষ সত্যিকার অর্থেই ছেকা খেলে নিজের মাঝে আর ফিরে আসতে পারে না । কিংবা ফিরে এলেও অনেক দেরি হয়ে যায় । তখন কিছু করার থাকে না ।

মনটা হইতে হবে ইস্পাতের মতো । গার্ল ফ্রেন্ড কে আরেক ছেলের সাথে দেখার জন্য প্রস্তুত থাকুন । যে হাতগুলো নিয়ে আপনি খেলতেন সেই হাতগুলো এখন অন্যের দখলে । এইটা মেনে নিন । মেনে না নিলে আপনি ভেঙ্গে যাবেন । মেনে নিলে দুই দিন অশান্তিতে থাকবেন । তৃতীয় দিন থেকে ঠিকই শান্তিতে থাকবেন ।

যে ছেলেটার সাথে আপনার গল্প তৈরি হওয়ার কথা ছিল সে এখন বাইকের পেছনে আরেক মেয়েকে বসায় । এটা দেখার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন । যে কেয়ারটুকু আপনার পাওনা ছিল সেই কেয়ারটুকু এখন পাচ্ছে অন্য কেউ । ব্যাপারটা দেখুন এবং ভুলে যান । লুকিয়ে থাকার কোন মানেই হয় না । কিপ ওয়াচিং । একসময় দেখবেন ব্যাপারটা সয়ে গেছে । আগে মতো আর পেইন লাগবে না ।

একটা রিলেশন ,সেটা যদি দশ বছরের সম্পর্কও হয় তারপরেও এই জিনিসের জন্য নিজের ক্যারিয়ারের একটা সেকেন্ড নষ্ট করাও উচিত না । যে আপনাকে ছেড়ে গেছে সে কিন্তু আপনাকে ছাড়া ভালোই আছে । সে কিন্তু আনন্দেই আছে । ভালো নেই আপনি । কারন আপনি বোকা । বিসিএসের গুরুত্বপুর্ন পড়াটা ভুলে গেলেও আপনি নিজের প্রেমিকাকে ভুলতে পারেন না । সাধারন জ্ঞানের প্রশ্নের ফাঁকে ফাঁকে তার অসাধারন চেহারাটা ভেসে উঠে ।

বাইক দেখলে আপনার মন খারাপ হয়ে যায় । মনে পড়ে বয়ফ্রেন্ডের কথা । আপনার মতো ট্যালেন্টেড ছাত্রীর যে একটা উজ্জ্বল ক্যারিয়ার আছে সেটা আর মাথায় আসে না । নিজের স্বার্থে মানুষকে ছাড় দিতে শিখুন ।

অথচ জীবনটা কতো সুন্দর । আপনি তো সারাজীবন এনগেজড ছিলেন না । এমন একটা সময় ছিল যখন আপনি কারো হাত নিয়ে খেলতেন না । দিন কিন্তু কেটে যেতো ভালো ভাবেই । এমন একটা সময় ছিল যখন আপনি কারো বাইকের পেছনের সঙ্গি ছিলেন না । জীবন কিন্তু তখনও কেটে যেতো । নিজেকে একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার যে আনন্দ সেটা গ্রহন করতে শিখুন । দেখবেন বস্তাবন্দী ইমোশন আপনাকে আর কুপোকাত করতে পারছে না ।

অন্যের সৃষ্টি হয়ে নয় ,বরং নিজেই স্রষ্টা হয়ে বাঁচুন । মনে রাখবেন স্রষ্টারা সবসময় একাই হয় ।তাদের কোন সঙ্গি / সঙ্গিনী থাকে না । 🙂 আমরা অনেক কিছুই হারাতে পারি । কিন্তু হারতে পারি না 🙂

Arafat Abdullah